IQNA

12:45 - November 13, 2018
সংবাদ: 2607213
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি বছরের শুরুতে আমি ‘সালাম সিস্টার’ নামক হিজাব পরিহিত পুতুলের বিষয়ে অনেক অনুচ্ছেদ পড়েছি। আর আমি এসব অনুচ্ছেদ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমার ৭ বছর বয়সী চাচাতো বোনের জন্য একটি পুতুলের অর্ডার করি। এর কিছুদিন পরেই অর্ডার অনুযায়ী ইয়াসমিন নামের বাদামী মুখাবয়বের হিজাব পরিহিত একটি পুতুল আমার কাছে চলে আসে।

বার্তা সংস্থা ইকনা: পুতুলটির সাথে তার কালো চুলগুলোর পরিচর্যা করার জন্য একটি চুলের ব্রাশ দেয়া হয় এবং যখন হিজাব সরিয়ে ফেলা হয় তখন এর সুন্দর কালো চুলগুলো সবার সামনে উদ্ভাসিত হয়।

১৯৮০ এবং ১৯৯০ সালে আমি যখন মা হই তখন ঠিক এমন একটি পুতুল আমি আমার বাচ্চাকে দিতে চাইতাম। সেসময় আমি একজন মুসলিম অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং সংস্কৃতিতে খুব কম সংখ্যক মুসলিমদের দেখতে পেয়েছি। আর এখন আমার চাচাতো বোনের রয়েছে সুন্দর হিজাবী ‘সালাম সিস্টার’ আর আমাদের রয়েছে রাশিদা তলাইব এবং ইলহান ওমারের মত ব্যক্তিত্ব।

এই মুসলিম নারীগণ প্রথম বারের মত কোনো মুসলিম নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি-আমেরিকান তলাইব ডেমোক্রেট দল থেকে মিশিগান রাজ্য থেকে নির্বাচিত হন এবং ৩৬ বছর বয়সী সোমালিয়ান-আমেরিকান ইলহান ওমার ডেমোক্রেট দল থেকে একই রাজ্য মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী জেনিফার যিইলিনস্কিকে পরাজিত করে জয়ী হন।

মুসলিম নাগরিক অধিকার সম্পর্কিত সংগঠন ‘Emgage’ এর হিসেব মতে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ১০০ জন মুসলিম প্রার্থী বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু এসব বিজয় এমন সময়ে আসছে যখন ‘Council on American-Islamic Relations’ জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের ওপর ঘৃণামূলক আক্রমণের হার ১৭ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। আর এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একজন মুসলিম নারী হওয়া খুবই দ্বিধান্বিত একটি ব্যাপার।

আমার মা যিনি গত ৩০ বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এখানে বসবাস করছেন তিনি শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে যেসব প্রতিবেশীদের সাথে কয়েক দশক বসবাস করেছেন তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণে অকারণে বৈষম্যের স্বীকার হয়েছেন।

আর হিজাব পরিধান করার পর থেকে তিনি দেখতে পেয়েছেন যে, তার বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধান করার কারণে তাকে আরো বেশি বৈষম্যের স্বীকার হতে হয়েছে।

সুতরাং হিজাব পরিহিত ইলহান ওমারকে কংগ্রেসে দেখতে পাওয়া একধরনের অলৌকিক বিষয়। তার এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুসলিম বিরোধী মনোভাব দূর করার একটি মোক্ষম সুযোগ এসেছে।

তলাইব এবং ওমার হচ্ছেন সেইসব নারী যাদেরকে ৩০ বছর পূর্বেও আমার প্রয়োজন ছিল।

আশার বিষয় হচ্ছে ‘Reflective Democracy Campaign’ নামক সংস্থার করা জরিপে উঠে এসেছে যে, ২০১২ এবং ২০১৮ সালের কংগ্রেসের নির্বাচনে বিভিন্ন বর্ণের নারীদের অংশগ্রহণ ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা মুসলিম নারীগণ ইলহান ওমার এবং তলাইবের মত নারীদেরকে যোদ্ধা ব্যতীত অন্য কিছু ভাবেন না। তারা শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গ নারীদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেননি বরং তারা বর্ণবাদ, বিদেশিভীতি এবং ইসলামভীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।

শ্বেতাঙ্গ নারীরা শুধুমাত্রই নারী কিন্তু বিভিন্ন বর্ণের নারীগণ হতে পারেন কৃষ্ণাঙ্গ, মুসলিম, এশিয়ান, নেটিভ আমেরিকান এবং অন্যান্য।

আমরা আমাদের নিজস্ব গল্প তৈরির জন্য যুদ্ধ করছি। আমরা জাতিগতভাবে এই দেশের সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ জনগোষ্ঠী। ইসলামের সাথে আমাদের সম্পর্ক এবং জাতিগতভাবে আমাদের মূল সবকিছুই একজন আরেকজন থেকে একেবারে ভিন্ন কিন্তু আমরা এই সত্য আবিষ্কার করেছি যে, একজন মুসলিম আমেরিকান নারী বলতে আসলে কি বোঝায়।

বর্তমানে আমার চাচাতো বোনের রয়েছে ইলহান ওমার এবং রাশিদা তলাইবের মত নেতৃত্ব যারা তাদের আগামী দিনের হাল ধরতে প্রস্তুত রয়েছেন।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে তলাইব এক টুইট বার্তায় ওমারের উদ্দেশ্য বলেছিলেন- ‘আপনার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে হাত ধরাধরি করে হাঁটার জন্য আমি আর ধৈর্য ধরতে পারছি না। আমি আপনার জন্য খুবই গর্বিত।’

সূত্রঃ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাংবাদিক জেনিফার চৌধুরী’র কলাম থেকে।

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: