IQNA

21:56 - January 09, 2019
সংবাদ: 2607714
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কায়রোর পূর্বাঞ্চলের একটি গির্জার বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণ গ্রেফতার করে অজানা স্থানে নিয়ে গিয়েছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা: শনিবার কায়রোর পূর্বাঞ্চলীয় "নাসার" মিনিটাউনের আজাবাত আল-হাজানা এলাকার আবু সুফিয়ান চার্চের ভিতরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বোমা বিস্ফোরণের ফলে মিশরের বিস্ফোরক অপসারণ বিশেষজ্ঞ মোস্তফা ওবাইদ নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশরীয় নিরাপত্তা বাহিনী নাসার মিনিটাউনে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের অ্যাপার্টমেন্ট এবং গাজবাতুল হিজানা এলাকার অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে আটক করে তাদেরকে অজানা স্থানে নিয়ে গিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী তাবলীকাতের একজন শিক্ষার্থী এ ব্যাপারে বলেন: সেনা বাহিনীর কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা আটটি আর্মড গাড়ি নিয়ে আমাদের ভাড়া করা বিল্ডিং-এ এসে হটাত করে শিক্ষার্থীদের পেটানো শুরু করে। এরপর তারা আমাদের মোবাইল ফোন এবং সনাক্তকরণ নথি নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে হিজাব ও নেকাব, খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন উৎসবের দিনে তাদেরকে অভিনন্দন জানানো বিধি বিধান এবং তাদের সাথ বিবাহ করার বিষয় সহকারে অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধান করে।

আল-আজহার ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড কমার্স অনুষদের অপর স্থান শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, "নিরাপত্তা বাহিনী আমাদেরকে পিটিয়ে আমাদের ঘরে অনুসন্ধান চালয়। এসময় তারা আমাদের আসবাবপত্র ভাংচুর করে সকল গুরুত্বপূর্ণ জিনিশ নিয়ে গিয়েছে।"

তিনি বলেন: এছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের মোবাইল ফোন চেক করে। এসময় এক শিক্ষার্থীর মোবাইলের ফেইসবুক একাউন্টে চার্চে বোমা বিস্ফোরণের খবর দেখার পর তাকে বেধড়ক মারে এবং সন্ত্রাসীদের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ দেখিয়ে আমাদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করে নিজেদের সাথে নিয়ে যায়।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাবেক মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-মাহী বলেন: : এটা পরিষ্কার যে মিশরের ইসলাম ধর্মের প্রকাশের সাথে আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির সিস্টেমের দৃঢ় প্রবণতা রয়েছে।

মিশরের "জাস্টিস এন্ড ফ্রিডম" এনজিও ২০১৬ সালে ঘোষণা করেছে: মিশরে ২০১৩ সালে মোট ২৬২২ জন শিক্ষার্থীকে বন্দী করা হয়, এরমধ্যে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৬২ জন শিক্ষার্থী ছিল। ২০১৫ সালে মোট ৭৬১ জন শিক্ষার্থীকে বন্দী করা হয়, এরমধ্যে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৩ জন শিক্ষার্থী ছিল এবং ২০১৬ সালে মোট ৮৯ জন শিক্ষার্থীকে বন্দী করা হয়, এরমধ্যে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ জন শিক্ষার্থী ছিল।

উল্লেখ্য, শনিবার কায়রোর পূর্বাঞ্চলীয় "নাসার" মিনিটাউনের আজাবাত আল-হাজানা এলাকার আবু সুফিয়ান চার্চের ভিতরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বোমা বিস্ফোরণের ফলে মিশরের বিস্ফোরক অপসারণ বিশেষজ্ঞ মোস্তফা ওবাইদ নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এসময় পুলিশের অপর দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

iqna

 

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: